14/01/2018

ভালোবাসার আচ্ছাদন

__দেখো শুভ,কতবার বলব অামি বিবাহিত।অামার স্বামী অাছে,তবুও কেন বার বার বিরক্ত করছ?[শুশ্রী]

__এসব তো অজানা নয়।[শুভ ]

__সবই জানো তবু কেন জ্বালাও অামাকে?

__কই জ্বালাই না তো। নিজেই জ্বলি!

__দেখো হেয়ালী করবা না একদম। তোমার এই হেয়ালীর জন্য অামাকে হারিয়েছ ভুলে যেওনা।

__অামি হারাইনি তোমাকে।বাস্তবতা হারাতে বাধ্য করেছে।

__চুপ থাকো। সারাজীবন তো বাস্তবতা বাস্তবতা করে চিল্লাইছ,অার শুনতে চাইনা।

__ভালোবাসি।

__লজ্জ্বা করেনা ভালোবাসি বলতে? কোন অধিকারে ভালোবাসি বলছ?

__যে অধিকারে ৩ বছর বলছিলাম।

__সেই গত ৩ বছর অার অাজকের মধ্য পার্থক্য অসীম। তখন তোমার ছিলাম।এখন অামি নিজেই অন্যের।

__এসব বাহ্যিকতা ছাড়ো। বিয়ে হলেই কি মানুষ পর হয়ে যায় নাকি। তুমি যেখানে ছিলে ঠিক সেখানেই রেখেছি।

__অামি রাখি। ও এসে পড়বে।

__একবার বলবেনা? সেই তোমার বিয়ের অাগে একবার শুনছিলাম।

__না বলবনা। বলে কি লাভ এখন। বলেই ফুঁপিয়ে উঠে ফোন রেখে দিল শুশ্রী
বড্ড বেকুব এ নীয়তিটা। নিষ্ঠুরও বটে। এক ছাদের নিচে থাকতে দেয়নি দুজনকে,অাবার ছাদ ভিন্ন হবার পরেও যোগাযোগটা রেখেছে দুজনের!
স্বামীকে ফাঁকি দিয়ে শুশ্রী যখন দুই এক মিনিট ফোন করে শুভকে,তখন ঠিক কথাও বলতে পারেনা দুজন। কন্ঠনালি অবরত করে বেদনার শ্লেষ। তিনটি বছর একসাথে,চার চোখ চার হাত কতনা সুখময় স্মৃতি নতুন করে ঝড় তোলে দুজনার দুই তীরে।
চলতেই থাকে এভাবে প্রতিনিয়তই বেদনার বীজ বোনা।

শুভর জীবনেও অালাদা কোন মেয়ে স্থান পায়নি। অাধুনিকতার সাক্ষ্যমতে একটা যাবে দুইটা অাসবে এসূত্র মানতে পারেনি সে। অাস্তে অাস্তে বাড়ছে দুজনের ফোন কল,বাড়ছে পূর্ব প্রেমের গভীরত্ব। হঠাৎ সীদ্ধান্ত শুশ্রী। অার জ্বলবে না সে। ফোন দেয় শুভকে।
__হ্যালো,কই তুমি?

__এই তো। অস্থির লাগছে তোমাকে?

__অামি তোমার কাছে অাসব।[শুশ্রী]

__মানে?[শুভ]

__কোন মানে নেই।অাসব মানে অাসব। অার পারছিনা অামি।সংসার করছি মানুষটার সাথে ৩ মাস কিন্তু একবারের জন্যও তোমাকে ভুলতে পারিনি শুভ।

__হুম।অামি যে কত ভালো অাছি তা তো জানোই। নতুন চাকুরিটা পেয়েছি,বেতন যদিও এখনও পাইনি তবুও এসো তুমি।বার বার ভুল করতে চাইনা অামি।

ভেঙ্গে গেলো একটা সংসার। একটা বাহ্যিক বন্ধন ভেঙ্গে তৈরি হলো একটা অাত্মিক বন্ধন। কোন পরিবারই হয়ত মানবেনা দুজনের এ মিলন কিন্তু তাই বলে জ্বলবে কি করে দুজন সারাজীবন!
একটা ছেলে একটা মেয়ের জন্য যোগ্য নয়,কিন্তু তাই বলে যোগ্য কখনও হবেনা এমন তো নয়! হ্যাঁ প্রতিটা বাবা মা’ই চায় মেয়েকে যোগ্য কোন পাত্রের হাতে সপে নিজেরা চিন্তামুক্ত হতে।
কিন্তু সুখের উদ্দেশ্যে নেওয়া কোন সিদ্ধান্ত যদি মেয়েটার বালিশ ভিজায় প্রতিরাতে কি স্বার্থকতা সেই সিদ্ধান্তের!

শত শত শুশ্রী অাজ নীল কষ্ট বুকে জমে নতুন মানুষটার বুকের উষ্ণতা নিতে বাধ্য হয়।সহস্র শুভ অাজ বিপথে বাস্তবতা বলুন কিংবা নীয়তির প্রহারে।
জীবন তো একটাই। একজন শুভ হোক,কিংবা শুশ্রী, প্রতিটা মানুষের অনুভূতি এই একটা জায়গায় সমান।
শুভ চেয়েছিল তখন বিয়ে করতে যখনি শুশ্রীর পরিবার পাত্র দেখছিল শুশ্রীর জন্য।শুশ্রীরও অমত ছিলনা।কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবার। অযোগ্য পাত্রের হাতে কন্যাদান কেনই বা করবেন।
সেই থেকেই তাদের সিদ্ধান্তে বদলে গিয়েছিল দুজনের পৃথিবী। কিন্তু অাজ অাবার নিজেদের সীদ্ধান্তে বদলে নিল নিজেদের।
হয়ত মাথার উপরে কংক্রিটের ছাদ থাকবেনা, হয়ত খাবার জন্য বিশাল ডাইনিং টেবিল থাকবে না,তাতে কি হয়েছে ভালোবাসা থাকবে তো অাজন্ম! বালিশ না ভিজেই প্রিয়জনের সাথে উষ্ণতা ভাগাভাগির চেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত অার কি হতে পারে!

ভালো থাকুক শুশ্রী -শুভর মত সহস্র ভালোবাসার উদহারণ,যারা ভুল কে ভুল বুঝিয়ে শুদ্ধ করে নিতে চেয়েছেন নিজেদের।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

Instagram

You Tube

"At the end of Love there is Pure Love"

Pure Love © 2020 | Privacy Policy