11/03/2018

স্ত্রীর কথা রাখতে বার্সেলোনা ছাড়বেন মেসি!

• ছোটবেলার ক্লাব নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজে ফেরার কথা অনেকবার বলেছেন মেসি।
• স্ত্রীকে কথা দিয়েছেন মেসি, আর্জেন্টিনায় ফিরবেন খুব দ্রুত।

ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো ট্রেবল জেতার অপেক্ষায় বার্সেলোনা। স্পেনের একমাত্র দল হিসেবে লা লিগা, কোপা ডেল রে আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথ থেকে এখনো ছিটকে যায়নি কাতালানরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় চেলসির মাঠে ড্র করে আসায় বেশ ভালো অবস্থানেই আছে দলটি।

তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে যত এগোতে থাকবে, ততই দুশ্চিন্তায় পড়বে বার্সেলোনা–সমর্থকেরা। কারণ, এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেই নাকি বার্সেলোনা ছেড়ে দেবেন লিওনেল মেসি!

ডন বালোনের মার্কোস রদ্রিগেজের দাবি এমনটাই। এই সাংবাদিকের দাবি, বার্সেলোনা ছাড়ার কথাটা কাছের মানুষদের বলে দিয়েছেন মেসি। এই ফরোয়ার্ড বেশ অনেকবারই বলেছেন, ক্যারিয়ার শেষ করার আগে আর্জেন্টিনায় ফিরতে চান। আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে নাকি কথাও দিয়ে রেখেছেন, এবারে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেই পরের মৌসুমে আর্জেন্টিনা চলে যাবেন। কারণ, রোকুজ্জো আর্জেন্টিনাতে থিতু হতে চান। আর মেসির নিজেরও স্বপ্ন ছোটবেলার ক্লাব নিউ ওয়েলসের জার্সি গায়ে চাপানোর।

তবে বিশ্বকাপ এ যাত্রায় বাধা হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এ বিশ্বকাপেও যদি শিরোপা হাতে ধরা না দেয়, তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সমালোচনার তির তাঁর দিকেই ছুটবে। বিশ্বকাপ না জিতিয়ে তাঁর দেশে ফেরা তখন ভালো চোখে দেখবে না আর্জেন্টিনার মানুষ। অন্তত ২০১৮-১৯ মৌসুমে তো নয়ই। তাই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে পরের মৌসুমেই মেসি আর্জেন্টিনায় ফিরতে পারছেন কি না, সেটি মেসির জাতীয় দলের সতীর্থদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।

আর মেসির বয়সও এখন ৩০। ক্লাব ফুটবলে বার্সার হয়ে কিছু জেতার না থাকলেও এই বয়সে শীর্ষ ফুটবলকে বিদায় জানাবেন? তাও তো মনে হয় না। অবশ্য মেসি নিজে বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার ফুটবলে তিনি একেবারে বুড়ো বয়সে ফিরবেন না; বরং এমন বয়সে ফিরতে চান, যখন ফুটবলে অনেক কিছু দেওয়ার থাকবে।

স্পেনের খুব ছোট দল আলবাসেতেকে কেউ মনে রাখবে কি না কে জানে, লিওনেল মেসি রাখবেন। আর্জেন্টাইন তারকা যেমন ভুলতে পারবেন না ২০০৫ সালের সেই ম্যাচটিও। আলবাসেতেও ভুলতে পারবে না সেই মৌসুম। সেবারই যে সর্বশেষ তারা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিল, এখন যুঝছে দ্বিতীয় বিভাগে। সেই মৌসুমটা তারা গর্বভরেও মনে রাখতে পারে। বলতে পারে, এই যে আজকের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, সর্বকালের সেরাদের ছোট তালিকায় নাম লিখিয়েছেন যিনি; তাঁর প্রথম গোলটা কিন্তু এই আমাদের বিপক্ষেই! ক্যারিয়ারের ৬০০ গোল পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তটায় মেসির সঙ্গী হতে পারে তারাও!

প্রথম গোল, বনাম আলবেসেতে, মে ২০০৫
মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি আরেক কারণে বিখ্যাত হয়ে থাকবে। গোলটি যে হয়েছিল রোনালদিনহো-মেসির যুগলবন্দীতে। মেসি তাঁর ক্যারিয়ারে ব্রাজিল কিংবদন্তির অবদান কখনো ভুলতে পারবেন না। শুরুর দিনগুলোতে রোনি আগলে রেখেছিলেন মেসিকে। শুরুর গোলটাও হয়ে আছে দুজনের এই দোস্তির সেরা উদাহরণ। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল মাথা ছুঁয়ে মাটিতে নামিয়ে মেসি বল বাড়ান রোনির দিকে। রোনি বল পেয়ে চিপ করে হাওয়ায় ভাসিয়ে পাঠিয়ে দেন ততক্ষণে বক্সের বাঁয়ে ঢুকে পড়া মেসিকে। একবার পড়ে ড্রপ খেয়ে ভেসে ওঠা বলে বাঁ পায়ের ভলিতে মেসি পাঠিয়ে দেন জালে। উদ্‌যাপনে সঙ্গী হিসেবে পান রোনালদিনহোকেই!

শততম গোল, বনাম কিয়েভ, সেপ্টেম্বর ২০০৯
মেসির শততম গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে। আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটা ভালো হয়নি। ইন্টার মিলানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে মেসির সেই গোল। ২৬ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। বক্সের ডান পাশে বল পেয়ে একাই টেনে ভেতরে ঢোকেন। তিন ডিফেন্ডারের জটলায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন। ম্যাচটা বার্সা জেতে ২-০ গোলে।

২০০তম গোল বনাম রিয়াল, আগস্ট ২০১১
মেসির ২০০তম গোলটি আসে স্প্যানিশ সুপার কাপে। খেলা চলছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, যেখানে মেসি নিজের সেরাটা দিতে সব সময় মুখিয়ে থাকেন। ১-১ গোলের সমতা। এমন সময় প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বক্সের সামান্য বাইরে বল পেয়ে রিয়ালের তিন ডিফেন্ডারকে পরস্পরের সঙ্গে ঠোক্কর লাগিয়ে, একজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে মাটিতে শুইয়ে মেসি স্কোরলাইনটা ২-১ করে দেন।

৩০০তম গোল, রায়ো ভায়েকানো, অক্টোবর ২০১২
পরের ১০০ গোল পেতে মেসিকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। এক বছর পরেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচে ক্যারিয়ারের ২০০তম গোল পেয়ে যান মেসি। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে মেসির দিকে বল বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে ঝড়ের বেগে ঢুকে রক্ষণ তছনছ করে মেসি বল পাঠান জালে।

৪০০তম গোল, গ্রানাডা, সেপ্টেম্বর ২০১৪
পরের ১০০ গোল পেতে অবশ্য মেসির অপেক্ষা ছিল প্রায় দুই বছরের। গ্রানাডার বিপক্ষে লিগের ম্যাচ। মেসি সেই ম্যাচে গোলের খাতাই খোলেন ৬২ মিনিটে। ৬৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেইমার। ৫-০ গোলে এগিয়ে বার্সেলোনা। তবুও গ্যালারিতে কিসের যেন অপেক্ষা! ততক্ষণে যে সবাই জেনে গেছে, মেসির ৩৯৯ গোল হয়ে গেছে। একটা গোল হলেও হয়ে যায় ৪০০। ম্যাচ শেষ হয়ে যায় যায়, এমন সময় ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয়, বার্সার ষষ্ঠ গোল করেন মেসি। হয়ে যায় তাঁর ৪০০ গোলও।

৫০০তম গোল, ভ্যালেন্সিয়া, এপ্রিল ২০১৬
মেসির ৫০০তম গোল এসেছে দুই বছর আগে। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মেসি ৩০০তম গোলের মাইলফলক পেরিয়ে যান। এর কয়েক দিন পর আসে ক্যারিয়ারের ৫০০ গোল। গোলটি এসেছে বার্সার আকস্মিক এক পাল্টা আক্রমণ থেকে। গোল করতে মরিয়া ভ্যালেন্সিয়ার সব খেলোয়াড় তখন বার্সার অর্ধে। মাঝ দাগ বরাবর ওত পেতে থাকা মেসিকে উদ্দেশ করে বল বাড়ায় বার্সার রক্ষণ। সেখান থেকে একা ফাঁকা মাঠে বল টেনে গোলটা করেন মেসি।

৬০০তম গোল, অ্যাটলেটিকো, মার্চ ২০১৮
গতকাল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের ৬০০তম গোল করলেন। দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে। এই গোল বার্সাকে জিতিয়েছে মহা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ম্যাচটিও।
পেশাদার ক্যারিয়ারে মেসির ৬০০ গোলের ৬১টি এসেছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে। তবে মাইলফলক গোলগুলোর কোনোটিই আর্জেন্টিনার হয়ে করেননি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

Instagram

You Tube

"At the end of Love there is Pure Love"

Pure Love © 2020 | Privacy Policy