18/04/2018

মা কী এমনও হতে পারেন!

ভারতের দিল্লিতে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে যে তার বয়ান বদল করে ‘বিষয়টি মিটিয়ে’ নেয়ার জন্য তার মা-বাবা অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

১৫ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাবা পলাতক। গত বছর অগাস্ট মাসে অপহরণ করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল ওই কিশোরীর ওপরে।

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ। কিন্তু তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছে।

পুলিশের কাছে দেয়া বয়ানে ওই কিশোরী জানিয়েছে, তারপর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তার মা-বাবার কাছে প্রস্তাব দেয়া হয় যে টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে।

“ওই কিশোরীর উদ্ধৃতি দিয়ে দিল্লি পুলিশ বলেন, তার মা-বাবা চাপ দিচ্ছিল আদালতে তার বয়ান বদল করতে। ২০ লাখ রুপি দেয়ার কথা হয়েছিল ধর্ষিতার পরিবারকে। অগ্রিম হিসাবে পাঁচ লাখ দিয়ে গিয়েছিল মেয়েটির বাবা-মায়ের কাছে। সে বয়ান বদল করতে না চাওয়ায় মা-বাবা তাকে মারধরও করেছে। এমন কি ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে দিয়েছিল।

মা-বাবা যখন বাড়িতে ছিলেন না, মেয়েটি তখন বাড়িতে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল নিয়ে প্রেম নগর পুলিশ ফাঁড়িতে হাজির হয়।

আউটার দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারী বলছেন, প্রথমে ফাঁড়ির ডিউটি অফিসারকে ওই কিশোরী জানায় যে তার কাছে কাগজে মোড়া তিন লাখ টাকা রয়েছে। অভিযুক্তরা ওই টাকা দিয়েছে তার বাবা-মাকে, যাতে সে আদালতে বয়ান বদল করে। টাকাটা বিছানার নিচে রাখা ছিল। মা-বাবা কাজে চলে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগে ওই কিশোরী টাকার বান্ডিল নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়।

পরে অবশ্য গুনে দেখা যায়, ওই বান্ডিলে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা রয়েছে।

ওই কিশোরী পুলিশকে আরো জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তার ওপরে বয়ান বদলের জন্য চাপ দিতে শুরু করে মা-বাবা।

পুলিশ কমিশনার তিওয়ারী জানিয়েছেন, মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে তার মা-বাবা এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। মাকে গ্রেফতার করা গেছে, কিন্তু তার বাবা পলাতক রয়েছে।

২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পরে সে বাড়ি ফিরে আসে, আর অভিযোগ করে যে তাকে আটকিয়ে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ওই এক সপ্তাহ ধরে তাকে নয়ডা আর গাজিয়াবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও সে অভিযোগ জানিয়েছিল পুলিশের কাছে।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকারই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তারপর থেকেই বয়ান বদল করতে চাপ দেয়া হচ্ছে, ঘুষও দেয়া হয়েছে মা-বাবাকে।

পুলিশ বলছে, এ ধরণের ঘটনা খুবই বিরল। নানা সময়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের দিক থেকে সমাজ মুখ ফিরিয়ে নিলেও, সাধারণত দেখা যায় যে মা-বাবা অন্তত তার পাশে আছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযুক্তর কাছ থেকে ঘুষ নিলেন মা-বাবা, বয়ান বদলে চাপ দিলেন, এটাই

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

Instagram

You Tube

"At the end of Love there is Pure Love"

Pure Love © 2020 | Privacy Policy