12/11/2017

ভালোবাসার হিসাব

মেয়েটি এসএমএস দিয়ে ছেলেটিকে বলে, আমাদের রিলেশনের বয়স ২৩ তারিখে ১ মাস পূর্ণ হলো ১৪তম ব্রেকাপ দিয়ে।

. ছেলেটি বলে তুমি ব্রেকাপ গুলি হিসাব করে রাখো, কিন্তু এমন ব্রেকাপ তো সারা জীবনে হাজারের উপরে হবে, সব কি মনে থাকবে?
. মেয়েটি মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে,আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসি যে তোমার প্রতিবার ভালোবাসি বলাও হিসাব করে রাখি,আর তুমি ফোনে কথা বলার সময়ে তুমি কতবার হাঁসো তাও হিসাব করে রাখি।

.

. ছেলেটি তখন অবাক হয়ে চিন্তা করতে থাকে কতবারই না ভালোবাসি বলেছে আর কতবারই না হাঁসি দিয়ে কথা বলেছে,আর মেয়েটি সব কিছুই হিসাব করে রেখেছে?
. ছেলেটি তখন মেয়েটিকে বলে তোমার ভালোবাসার হিসাবের খাতাটিতে আরো একবার ভালোবাসি বলা যোগ করো,এই বলেই ছেলেটি মেয়েটিকে আবার বলে ভালোবাসি তোমায় একটু না অনেক বেশি।
. মেয়েটি তখন নিজের হাতে আরো একটা চিমটি কাটে,আর টেবিলের উপর ডায়েরিতে আরো একবার লিখে রাখে ভালোবাসার কথা।

.

. ছেলেটি তখন জিজ্ঞেস করে এই নিয়ে কতবার বললাম ভালোবাসি?মেয়েটি বলে হিসাবটা না হয় বিয়ের পর মিলিয়ে দেখ।আর আমার পাওনাটাও তখন ফেরত দিও সুদ সহ।
. ছেলেটি অবাক হয়ে ভাবতে থাকে কালকে রাতেও না কতই কাঁদালো মেয়েটিকে,একটু হলেই কাঁদায়,আর মেয়েটিও গুছিয়ে কাঁদতে পারে,ছেলেটির ভালোলাগার জন্য।
. মেয়েটি বলে আমি কি একটি কথা বলবো যদি তুমি রাখো,আর যদি সমস্যা হয় তবে না বলে দিও।

.

. ছেলেটি বলে বলো,তুমি বললে আমি শুনতে রাজি,তবে আমার কথা গুলিও রাখতে চেষ্টা করো।
. মেয়েটি বলে আমি তোমার সব কথাই শুনবো,সব কাজ করবো তুমি শুধু বিয়ের পর নিয়মিত আমার একটি কাজ ই করে দিও।
. ছেলেটিঃ কি কাজ শুনি একটু।

.

. মেয়েটিঃ তুমি আমার মশারি টাঙিয়ে দিও প্রতিদিন, এই কাজটা করতে আমার বড্ড খারাপ লাগে।
. ছেলেটিঃতুমি চিন্তা করো না,আমি এখন ই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাই না,আর বিয়ের পর ও ঘুমাবো না। তবে,তুমি যদি চাও আমি নিজেই তোমার জন্য মশারি হয়ে সারারাত তোমায় পাহাড়া দিবো।
. অতঃপর মেয়েটির চোখে-মুখে লজ্জার হাসি,আর মেয়েটি অপেক্ষায় আছে কখন বলবে তাকে ভালোবাসি,আর সে হাতে চিমটি দিয়ে ভালোবাসার হিসাবের খাতায় আরো একবার লিখে রাখবে,ভালোবাসি কথাটি।

.

. ছেলেটিও তার ফোনের নোট প্যাডে লিখে রাখবে আজকে থেকে কতবার মেয়েটিকে কাঁদালো,একজন ভালোবাসার হিসাব রাখুক আর একজন না হয় কাঁদানোর হিসাব রাখবে।দুইজনের হিসাব দিয়েই না হয় জীবনের শেষ ক্ষনে এসে মিলিয়ে দেখবে কে জয়ী হলো।
. কিন্তু মেয়েটি জানে না,ছেলেটি জয়ী হবার জন্য মেয়েটিকে বেশি ইচ্ছা করেই কাঁদায়।আর মেয়েটি দিন দিন ভাবে এই বুঝি ছেলেটি অবহেলা করতে শুরু করেছে।
. হাঁসি-কাঁন্নার মাঝেই দিন গুলি ফুরিয়ে যায় ভালোবাসার হিসাব রাখার দিন গুলি।একদিন আর মেয়েটি ভালোবাসি কথাটি শোনার অপেক্ষা করে না,এখন ছেলেটির ঘর সাজাতে ব্যাস্থ থাকে,ছেলেটিকে ভালোবাসতে ব্যাস্থ থাকে।

.

. মেয়েটি তার সব কথাই রেখেছে,সব কাজ করে ছেলেটির। কিন্তু প্রতিরাতে অপেক্ষায় থাকে কখন নিশ্চুপ ছেলেটি এসে মশারি টাঙিয়ে দিবে।
. ছেলেটি জানতো মেয়েটি কোনদিন ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাবেনা, তাইতো যত কাজ থাকুক না কেনো অফিস থেকে নিয়মিত সময় করে চলে আসতো মেয়েটির ঘুমিয়ে পরার আগেই,শুধু মেয়েটির একটি কথাই রাখতে।
. মেয়েটি এইটুকু তেই খুশি,শুধু তার বরের অফিস যাবার আগে গলা ধরে বলে “নিশ্চুপ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি”। নিশ্চুপ একটু হাসি দিয়ে বলে হুম জানি চলে আসবো আগেই, আর মশারি আমিই সারা জীবন তোমাকে টাঙিয়ে দিবো, চিন্তা করো না।

.

. মেয়েটি আবার সব কাজ করেতে থাকে, ছেলেটির জন্য পছন্দের খাবার গুলি রান্না করে, অপেক্ষা করতে থাকে ছেলেটি কখন বাড়িতে ফিরে আসবে।
. সত্যিকারের ভালোবাসার তুলনা এই সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ গুলি,যাদের মাঝে ভালোবাসার টিকিয়ে রাখার জন্য কারন খুঁজতে হয় না,আপনা- আপনি সৃষ্টি হয়।আর ঝগড়া গুলি হয় ভালোবাসার , যা ইচ্ছা করেই করে দুজনেই আরো একটু ভালোবাসার জন্য..!

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

Instagram

You Tube

"At the end of Love there is Pure Love"

Pure Love © 2019 | Privacy Policy